• Thursday, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ১১:৫৬
শিরোনাম

কওমী মাদরাসা‌বি‌রোধী ষড়যন্ত্র তখন এখন

কওমী মাদরাসা‌বি‌রোধী ষড়যন্ত্র : তখন এখন

আলী হাসান তৈয়ব: আজ থেকে দেড় যুগ আগে এক বিদেশি পত্রিকার রিপোর্ট দেখেছিলাম কওমি মাদরাসা নিয়ে। তাতে পরিষ্কার বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার এই একটি গোষ্ঠীই তাদের ধর্মীয় চেতনায় আপসহীন। এরা তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের মতো মাতৃভূমি রক্ষায়ও জীবন বাজি রাখতে দ্বিধা করার মতো না। এদের এই 'মৌলিবাদী' চেতনা পরিবর্তন না করতে পারলে ওই অঞ্চলে পশ্চিমা প্রভাব নিরঙ্কুশ বিজয়ী হতে পারবে না কখনই।

এরপর থেকেই দেশি ও আন্তর্জাতিক তাবৎ মিডিয়ার টার্গেটে পরিণত হলো কওমি মাদরাসা। আবুল বারাকাত নামের এক অধ্যাপক সংবাদ সম্মেলন করে তার কাল্পনিক গবেষণা তুলে ধরে এসব মাদরাসা নিয়ে ভয় দেখালেন। শুরু হলো এর বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক তকমা দেওয়া আর বিদ্বেষপ্রসূত প্রতিবেদন।

আজ একজন বলেন 'জঙ্গি প্রজননকেন্দ্র' তো কাল আরেকজন বলেন 'ব্যাঙের ছাতা' । এক পত্রিকা প্রথম পাতায় লিড স্টোরি করে— ঢাকার সব প্রবেশপথে কয় ডজন মাদরাসা, আরেকটা পত্রিকা লিড নিউজ করে— রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়ায় এক কিলোমিটারে কয় হালি মাদরাসা। এক ইংরেজি দৈনিক সিরিজ প্রতিবেদন করতে থাকে— কেন এসব মাদরাসা এত অপপ্রচারের পরেও বেড়েই চলেছে। চিহ্নিত বাম মিডিয়াগুলো শোরগোল তুলল নানা প্রশ্নের— এরা কাদের টাকায় পরিচালিত, এরা সরকারের নিবন্ধিত নয় কেন, এরা কেন পাকিস্তানি ভাষা পড়ায়, এরা কেন জাতীয় সংগীত গায় না, এরা কেন একুশে প্রভাতফেরি করে না, স্মৃতিসৌধে ফুল দেয় না ইত্যাদি নানা হাস্যকর প্রোপাগান্ডা। মুন্নী সাহা আর নবণীতাদের ঘুম হারাম হয়ে গেল। কোথাকার কোন চিপার মাদরাসায় গিয়ে বর্ণমালা শিক্ষারত শিশুদের এনে ক্যামেরায় দেখাতে লাগল— এরা এদেশের কিছুই জানে না, বাংলা হরফই চেনে না। আরও কত গোয়েবলসীয় তৎপরতা।

রাখে আল্লাহ মারে কে? গুলশানের হোলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার হামলার পর এদের সব বুমেরাং হয়ে দেখা দিন। নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোর তথ্য ও গবেষণা সামনে চলে এলো। আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে চলে আসল— মাদরাসা নয় এলিট শ্রেণী আর প্রচলিত শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিতরাই এসব কাণ্ডে বেশিরভাগ জড়িত। এরমধ্যে শাপে বর হয়ে এলো পশ্চিমাদের আইএস নিয়ে খেলা। সরকার বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে জোরালোভাবে এই ট্রামকার্ড উপস্থিতির কথা অস্বীকার করল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে নিয়ে ডিএমপি কমিশনার পর্যন্ত পরিষ্কার বলে দিলেন, এই মাদরাসাগুলো দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করছে, মাদরাসায় জঙ্গি তৈরি হয় না ইত্যাদি।

গত দুই বছরে আমরা দেখছি জঙ্গিজূজু শতভাগ মাঠে মারা গেছে। এটা এখন দেশবাসী দূরের কথা, শয়তানও বিশ্বাস করে না। এবার ওই চক্রের জন্য দরকার হয়ে পড়ল প্রোপাগান্ডার নতুন অস্ত্র। এবং খুব সহজেই পেয়ে গেল সেই হাতিয়ার। সেটিই এখন আমরা দেখছি নৈতিকতা তৈরির সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত কারখানা কওমি মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে নীতিবিরোধী নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের রিপোর্টে।

আমি বলছি না এর সবই মিথ্যা। এসব অপরাধ আগেও ছিল বিচ্ছিন্নভাবে। কিন্তু এভাবে পরিকল্পিত প্রচার এমন হয় নি। তাছাড়া চিহ্নিত একটি ধর্মের বেশ কিছু লোক ধরা পড়ার চিত্র মিডিয়ায় এসেছে, যারা এই সাদা টুপিগুলোতে কালি মাখতে মাঠে নেমেছিল। তাছাড়া ঘৃণ্য সমকামীতার অধিকার পেতে যারা বিশ্বজুড়ে এত জেহাদ করছে, সেই পশ্চিমা মিডিয়ার মুখে নেহালদের জন্য এত দরদ কেন! সৎ মায়ের আদরের মাজেজা বাঙালি ভালো করেই জানে।

মুখ চেনা এই কালসাপগোষ্ঠী আগে সফল হয় নি, ভবিষ্যতেও হবে না ইনশাআল্লাহ। যতদিন না কওমির লোকেরাই কওমিকে নষ্ট না করছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, আজকাল ঘরেও তৈরি হচ্ছে ঘরের শত্রু। বাইরের শত্রুদের ব্যর্থ বানাতে জরুরি এই ঘরের শত্রু বিভীষণদের নিজেরাই প্রতিরোধ করা। মিডিয়ার মিথ্যা নিয়ে যতটুকু পেরেশানি তারচেয়ে বেশি বেচাইন হওয়া দরকার এদের নিয়ে। যারা কুরআনের ভাষায় দ্বীনকে বিক্রি করে স্বল্প মূল্যে।

যারা সকাল-বিকেল রূপ বদলায়। হাওয়ার সঙ্গে শ্লোগানও পাল্টায়। সব নেতা ও নেতৃস্থানীয়দের হতে হবে শতভাগ সৎ। এদের মধ্যে যারা নীতিভ্রষ্টতার প্রমাণ দেবেন, তাদের শাস্তি ও পদচ্যুত করার নীতিও হতে হবে প্রশ্নাতীত।

 

আলী হাসান তৈয়ব
সহকারী সম্পাদক , দৈ‌নিক আলো‌কিত বাংলা‌দেশ

শেয়ার